রাজশাহীর হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড. মারুফ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক শরনিম আক্তার তা নামঞ্জুর করেন।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নাম ড. মারুফ হোসেন। তিনি নগরীর হড়গ্রম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ এবং কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ফুদকিপাড়া খিরশিন এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল হড়গ্রম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড. মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে মহানগরীর বোযালিয়া মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা করেন একই কলেজের এক নারী প্রভাষক। মারুফ ওই নারী শিক্ষকের আপন মামাতো ভাই। নিকট আত্মীয় হওয়ায় ও চাকরির সুবাদে বাড়িতে এবং কর্মস্থলে তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী, যিনি পেশায় একজন প্রভাষক, ২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় অধ্যক্ষ মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার নথিতে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অধ্যক্ষ মারুফ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ করলে চাকরির ক্ষতি হবে বলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় সাত বছর ধরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন তিনি।
এজহারে আরও বলা হয়, শুধু তাই নয়, কর্মস্থলে মিথ্যে অভিযোগ এনে নানারকম কৈফিয়ত তলব করতেন অধ্যক্ষ মারুফ। এছাড়া কলেজর সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে নানা রকম হয়রানি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী প্রভাষক তৎকালীন কারিগরি শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডিজি শিক্ষা, আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান সভাপতি, কারিগরি শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন দফতরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অধ্যক্ষ ড. মারুফ তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওযামী লীগের এমপি, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সান্নিধ্যে থাকায় সেই অভিযোগগুলো আলোর মুখ দেখেনি। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন মারুফের বাবা আমজাদ হোসেন।
মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মারুফ আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২৩ সালের ৮ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পান তিনি। জামিনের মেয়াাদ শেষে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির হয়ে পবিত্র হজে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালতা তা মঞ্জুর করেন। এরপর ২০২৩ সালের ৮ আগষ্ট মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসলে সেখানে বদলি জামিন নেন অধ্যক্ষ মারুফ হোসেন। এরপর চলতে থাকে নিয়মিত হাজিরা। সর্বশেষ তিনি মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে হাজির হন এবং জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শরিফুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে জব্দকৃত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) -এর ৯(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষ মারুফ হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আদালত মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে আগামীতেও ন্যায় বিচার পাব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ওই নারী প্রভাষক বলেন, আদালতের আদেশে আমি সন্তুষ্ট। আদালত এ আসামির সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করবে বলে আমি আশাবাদী।
Development by: webnewsdesign.com