বগুড়ার শাজাহানপুরে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর অশ্লীল ছবি ফেসবুকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘৃণিত এই কাজের জন্য সামাজিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মেয়েটির পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের বড়নগর মুন্সিপাড়ায়।
মেয়েটি জানায়, এক মাস আগে ‘ভাল থাকুক ভালবাসা’ নামে একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে সাখাওয়াত (২২) নামে এক ছেলের সাথে পরিচয় হয়। সাখাওয়াত নিজেকে বিদেশফেরত বলে জানায়। বর্তমানে বগুড়ার নন্দিগ্রামে এক কম্পানিতে চাকরি করে বলেও জানায় সাখাওয়াত। বাড়ির ঠিকানা বলে শাজাহানপুরের ডোমনপুকুর গ্রামে।
ফেসবুকের পরিচয়ের সূত্র ধরে সাখাওয়াতের সাথে মেয়েটির বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয় সাখাওয়াত। এসএসসি পরীক্ষা দিতে গেলে সাখাওয়াতের সাথে মেয়েটির প্রথম দেখা হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রে গিয়ে সাখাওয়াত মেয়েটিকে বিরক্ত করত। মেয়ের বান্ধবীদের সামনে মেয়েটিকে হাত ধরে টানাটানি করত। সবাইকে বলত মেয়েটির সাথে তার প্রেম ভালোবাসা আছে।
তাকে বিয়ে করার জন্য জোর করত। এভাবে বেশ কয়েকদিন মেয়েটিকে বিরক্ত করে সাখাওয়াত। একপর্যায়ে ফেসবুক আইডি হ্যাক করে মেয়েটির ছবি সংগ্রহ করে এডিটিংয়ের মাধ্যমে অন্য মেয়ের অশ্লীল ছবির সাথে জোড়া দিয়ে পরবর্তীতে মেয়ের মামার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ওই আইডি থেকে অশ্লীল ছবিগুলো সাখাওয়াত ফেসবুকে পোস্ট করেছে বলে জোরালোভাবে দাবি করেন মেয়েটি। এ ছাড়া ‘এস এস সি বন্ধু’ নামে গ্রুপ ম্যাজেঞ্জারেও ছাড়া হয়েছে। ওই রাতে সাখাওয়াত ফোন করে বলে তোর এলাকার পাঁচ শ জনকে ওই ছবি দেওয়া হয়েছে।
মেয়ের মা জানান, ছেলেটির বিরক্তের হাত থেকে বাঁচতে মেয়ের অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমন খবর পেয়ে ছেলেটি আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ কারণেই তার মেয়ের ক্ষতি করার জন্য অন্যের আইডি হ্যাক করে অশ্লীল ছবি ছেড়েছে সাখাওয়াত। এতে করে সামাজিক ভাবে মানক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি মেয়ের জীবন নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, মেয়ের বাবা সিরাজগঞ্জে এসআর কেমিক্যাল এক বেসরকারি কম্পানিতে চাকরির সুবাদে সেখানেই থাকেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন। মেয়ের বাবা বাড়িতে না থাকায় আইনের আশ্রয় নেবেন কি-না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বাড়িতে আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে মেয়ের বাবার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে জানানো হয়েছে। সেখানে সুরাহা না হলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে। আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল জানান, মেয়েটির বাবা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাকে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাখাওয়াতের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অফিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Development by: webnewsdesign.com