বরিশালের একটি হিফজ মাদ্রাসায় সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বইয়ের নামে জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি হতে বাধ্য করা হচ্ছে। আর এই ভর্তি প্রক্রিয়াকেই অর্থ আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক অভিভাবক।
বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার ১৫ নম্বর রোডের সি-ব্লকে অবস্থিত তানজিমুল উম্মাহ নিম্ন মাধ্যমিক ও হিফজ মাদ্রাসাসহ জেলার কয়েকটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এসব মাদ্রাসায় প্রতিবছর নতুন করে ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও পুনরায় ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। এই সুযোগে বিভিন্ন খাতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
চলতি বছর তানজিমুল উম্মাহ হিফজ মাদ্রাসার হিফজ শাখায় ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে রয়েছে, সেশন ফি: ৯ হাজার টাকা,পরীক্ষার ফি: ২ হাজার ৪০০ টাকা,সরকারি পাঠ্যবই, খাতা ও ডায়েরি বাবদ: ১ হাজার ৫০০ টাকা,ম্যাগাজিন ফি: ৫০০ টাকা,আইডি কার্ড ফি: ২০০ টাকা,আদর্শ ফি: ১ হাজার ৫০০ টাকা।
একসাথে দুই বছরের মাসিক ফি: ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ২৩ হাজার টাকা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে সরবরাহকৃত পাঠ্যবই দেওয়া হলেও সেই বইয়ের নামেই নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ভর্তি রশিদেও এই অর্থকে বই বাবদ উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে তারা সন্তানদের ভর্তি করালেও এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ, নির্যাতন, পরীক্ষায় ফেল করানো কিংবা মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার হিফজ শাখার প্রধান মো. মিজানুর রহমান বলেন,এটি হিফজ বিভাগ। এখানে আমাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফি নেওয়া হয়। বইয়ের সঙ্গে খাতা ও ডায়েরি দেওয়া হয় বলেই ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রতিবছর শ্রেণি উত্তরণের সময় নতুন করে ভর্তি নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।
অভিভাবকরা দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
Development by: webnewsdesign.com