পেকুয়ায় পরকীয়া ঢাকতে স্বামীকে খুন: মামলার বাদী সেই স্ত্রীই এখন শ্রীঘরে

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ৮:১২ অপরাহ্ণ

পেকুয়ায় পরকীয়া ঢাকতে স্বামীকে খুন: মামলার বাদী সেই স্ত্রীই এখন শ্রীঘরে
apps

পেকুয়া কক্সবাজারের পেকুয়ায় শিলখালী জারুলবুনিয়া এলাকায় আলোচিত জসিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা হওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার পর নাটক সাজিয়ে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৪২)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; দীর্ঘ তদন্তের পর খুনের মূল হোতা হিসেবে সেই স্ত্রীকেই গ্রেপ্তার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।

​শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পেকুয়া থানার এসআই সুনয়ন বড়ুয়ার নেতৃত্বে কক্সবাজারের পিটি স্কুল এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ আগস্ট গভীর রাতে শিলখালীর সেগুন বাগিচা এলাকায় নিজ ঘরে নির্মমভাবে খুন হন জসিম উদ্দিন। স্ত্রী সেলিনা আক্তারের সাথে স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন রাতে রাজ্জাকের সাথে সেলিনাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন জসিম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামী জসিমকে কুপিয়ে হত্যা করেন সেলিনা।

​হত্যাকাণ্ডের পরদিন প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেলিনা আক্তার নিজেই বাদী হয়ে প্রতিবেশী চারজনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার ছেলের সাথে প্রতিবেশীর মেয়ের প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং তিনি ভয়ে অন্য ঘরে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক অবস্থায় নিরপরাধ দুই প্রতিবেশীকে আটকও করেছিল।

​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুনয়ন বড়ুয়া হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ ও নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিবেশী নয় বরং স্ত্রী সেলিনা ও তার প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাকই এই খুনের নেপথ্যে। ঘটনার প্রায় এক মাস সাত দিন পর নিহতের পিতা মো. নুর আহমদ বাদী হয়ে সেলিনা আক্তারকে প্রধান আসামি করে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দীর্ঘ পলাতক থাকার পর অবশেষে সেলিনাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

​পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, “স্বামী হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত সেলিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Development by: webnewsdesign.com