পুঠিয়ায় বিএনপির বিদ্রোহীর সমর্থকদের পানিতে নামিয়ে ‘অজু’ করানোর অভিযোগ

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:২০ অপরাহ্ণ

পুঠিয়ায় বিএনপির বিদ্রোহীর সমর্থকদের পানিতে নামিয়ে ‘অজু’ করানোর অভিযোগ
apps

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের ধরে পানিতে নামিয়ে ‘অজু’ করানো ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। একই আসনে পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া প্রতীক) ও লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা রেজাউল করিম (ফুটবল প্রতীক) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে জয়ী হন নজরুল ইসলাম মন্ডল।

ভোটের পর থেকেই পুঠিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিমের সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত পাঁচজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে মারধর করে পুকুরে নামিয়ে ‘অজু’ করানো হয় এবং তাদের দিয়ে ‘ফুটবলে ভোট দেওয়া ভুল হয়েছে’ -এমন বক্তব্য বলানো হয়।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে এক ব্যক্তি মইদুল ইসলাম নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে গালিগালাজ করে পানিতে নামতে বাধ্য করছেন। মইদুল হাতজোড় করে মারধর না করার অনুরোধ জানালেও তাকে পুকুরে নামিয়ে ‘অজু’ করতে বলা হয়। পরে তাকে বলতে বাধ্য করা হয়, তিনি বিএনপি করেন কিন্তু ফুটবল প্রতীকে ভোট দিয়ে ভুল করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন এমপি নজরুল ইসলামের নাতি রিকো মন্ডল, আলী হোসেন ভুট্টু, তার ভাতিজা মো. রুবেল, মুন্না, সাগর ও রকিসহ কয়েকজন। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন না।

একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন পুঠিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার চান্দু। তিনি জানান, নির্বাচনের পরদিন তাকে মারধর করে মোটরসাইকেলসহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এছাড়া রামজীবনপুর মহল্লার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন, বাগানপাড়া এলাকার বিএনপি কর্মী আরিফুল ইসলাম (আরিফ শেখ) এবং পুঠিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল হক রুবেলও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরিফ শেখের পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
সাবেক পৌর মেয়র আল-মামুন খান অভিযোগ করে বলেন, ভোটের পর থেকে অন্তত ১০ জনকে মারধর ও পানিতে চুবানো হয়েছে। অনেকেই ভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযুক্ত আলী হোসেন ভুট্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা ‘ঝামেলায়’ আছেন। তবে মারধর ও পানিতে চুবানোর অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দেননি।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, তিনি ঘটনাগুলো শুনেছেন এবং এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে তার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোট শেষ হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে পরে বসা হবে।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, পানিতে নামানোর বিষয়টি তিনি অবগত। তবে এ পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Development by: webnewsdesign.com