চট্টগ্রামের রাউজানে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া একটি চাইনিজ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৯ নভেম্বর) গভীর রাত ১টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীহাট এলাকার আব্দুর রশিদ মেম্বারের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে তার বাড়ির পুকুরে সেচ দিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই গ্রামের মো. শওকতের ছেলে মো. সাকিব এবং সোবহান ওরফে শহর মুল্লুকের ছেলে মো. শাহেদ।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে, চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, একটি চাইনিজ রাইফেল, একটি শটগান, ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের ৪৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, শটগানের ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ৭.৬৫ মিমি ক্যালিবারের ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, সাতটি ম্যাগাজিন, দুটি দেশীয় রামদা এবং একটি রকেট ফ্লেয়ার।
তাছাড়া ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, আনুমানিক ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বাড়ির আশপাশে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য পেয়ে পুকুরটি সেচ করা হয়। সেখান থেকে থানার লুণ্ঠিত একটি চাইনিজ রাইফেল, একটি শটগান এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকে এ পর্যন্ত মোট সাতটি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। চট্টগ্রাম ও রাউজানে সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ড ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এসব অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাউজানে বিএনপি কর্মী হত্যার ঘটনায় এসব অস্ত্রের ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলো টার্গেট কিলিং। এসব হত্যায় ভাড়াটিয়া খুনি ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই সন্ত্রাসীদের ছাড় দেবো না। হয় সন্ত্রাসীরা থাকবে, না হয় রাউজানের পুলিশ থাকবে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারে গোলাগুলি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসব ঘটনায় সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করছেন।
Development by: webnewsdesign.com