ঝিনাইদহ গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মাসউদ,

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে গ্রাম আদালত

মঙ্গলবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৭:২৪ অপরাহ্ণ

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে গ্রাম আদালত
apps

​ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেছেন যে, স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো গ্রাম আদালত। তবে এই বিচারব্যবস্থা তখনই পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর হবে, যখন নারী-পুরুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিচার চাইতে পারবেন।

​রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

​জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা যখন গ্রাম আদালতের কথা বলি, তখন শুধু একটি আইনি কাঠামোর কথা বলি না, আমরা বলি মানবিকতা, ন্যায়, সমতা ও সুশাসনের কথা।” তিনি জোর দেন যে, বিচার চাইতে এসে যেন কোনো নারী নির্যাতন, লজ্জা বা ভয়ের শিকার না হন।

​তিনি ব্যাখ্যা করেন, জেন্ডার সংবেদনশীলতা মানে কেবল নারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতিটি ধাপে নারী-পুরুষসহ সকল নাগরিকের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও ঝুঁকিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা।

​মাসউদ দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন, গ্রাম আদালতকে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া সম্ভব হলে স্থানীয় সংঘাত কমবে, মামলার জট হ্রাস পাবে, মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার পাবে এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন এমন একটি ব্যবস্থা গড়তে চায়, যেখানে কেউ বঞ্চিত হবে না, কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।

​এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃত্ব, মাঠ প্রশাসন—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তাঁর বিশ্বাস, আজকের কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ এলাকায় বাস্তবায়িত হলে গ্রাম আদালত আরও মানবিক ও জনগণের আদালতে পরিণত হবে।

​কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত গ্রাম আদালতে ২ হাজার ৮৬৭টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার ৩৫০ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

​স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, এডিএম সুবীর কুমার দাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনেআরা, কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আনিসুল ইসলাম, গ্রাম আদালতের জেলা ব্যবস্থাপক রহিদুল ইসলামসহ উপজেলা কো-অর্ডিনেটর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

Development by: webnewsdesign.com