নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক মার্কেট এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তিনতলা একটি ভবনের গেটে তালা মেরে ছয়টি পরিবারকে প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে মাসুম রানা নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই ভবনটিতে তালা মেরে পরিবারগুলোকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করে।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত মাসুদ রানা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিনের ছেলে।
ভবন মালিক জব্বার মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম রনির দাবি, ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেছে।
নজরুল ইসলাম রনি আরও জানান, আমরা বাড়ির পাশে আরেকটি বাড়ি ক্রয় করেছি। সেই থেকেই মাসুম রানা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছেন। মাসুম রানা আমাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। সেই চাঁদার টাকার দাবিতেই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আমাদের ভবনের কোলাপসিবল গেটে তালা মেরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমরা সকাল ১০টা থেকে বাড়ির বাইরে যেতে পারিনি।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. কামরুল ফারুক বলেন, রাস্তার জায়গা নিয়ে রনিদের সঙ্গে মাসুদ রানাদের বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষই জমি দাবি করছে। এই বিরোধের জেরেই মাসুদ রানা রনিদের বাড়ির সামনে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণ করে তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এছাড়াও তারা ভবনের কোলাপসিবল গেটে তালা মেরে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে অবমুক্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার পর অভিযুক্ত মাসুদ রানা পালিয়ে যান। পুলিশ তাকে খুঁজছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে ওসি কামরুল ফারুক বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে যাচাই বাছাই করে দেখেছি ঘটনা সঠিক নয়। মিথ্যা কথা ছড়ানো হয়েছে। এর কোনো সত্যতা আমরা পাইনি।
Development by: webnewsdesign.com