ঝর্ণা, নান্দনিক গেট ও আধুনিক রাইডসহ ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপ পরিচালনায় ২০ বছরের লিজে পুনঃপ্রকাশ পাবে পার্কটি।
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত কর্ণফুলী শিশুপার্ক একসময় শিশু-কিশোরদের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। উৎসবের দিন কিংবা সপ্তাহান্তে পার্কটি শিশু ও পরিবারে ভরে যেত। পার্কটি বন্ধ হওয়ার আগে নগরের শিশুদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল কাজির দেউড়ি শিশুপার্ক ও বহদ্দারহাট বাসটার্মিনাল এলাকার স্বাধীনতা কমপ্লেক্স।
তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে কাজির দেউড়ি শিশুপার্ক সিলগালা করে দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য পার্কও বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আগ্রাবাদ শিশুপার্ক ও স্বাধীনতা কমপ্লেক্স কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
নগরবাসী এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্কটি পুনরায় সংস্কার হয়ে চালু হলে এটি শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
সংস্কারের অগ্রগতি:
গতকাল শনিবার বিকেলে পার্কে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশমুখে নান্দনিক গেটের নির্মাণকাজ চলছে। গেটের ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নতুন ঝর্ণা নির্মাণের কাজ, যা করতে চারজন শ্রমিক ওয়েল্ডিং করছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাইড ও স্থাপনায় চলছে রঙ এবং মেরামত কাজ। পার্কের ভিতরের রাস্তা ও অন্যান্য স্থাপনার সংস্কারও সমাপ্তির পথে।
ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন জানান: “পূর্বের কর্ণফুলী শিশুপার্কের পুরাতন আদল ভেঙে এটি নান্দনিকভাবে আধুনিক করা হচ্ছে। বর্তমানে গেট, রাস্তা, ঝর্ণা, ওয়াশরুম এবং রাইডের সংস্কার কাজ চলমান। দর্শনার্থীরা পুরাতন পার্ককে নতুন রূপে দেখতে পারবেন। শুরুর সময় ১৯টি রাইড থাকবে এবং চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আরও ১০টি নতুন রাইড যুক্ত হবে। আশা করি এটি নগরবাসী, বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনের কেন্দ্র হবে।”
তিনি আরও জানান, পার্ক আগে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকত। নতুনভাবে এটি সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে সকাল-বেলা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশাধিকারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন: “দীর্ঘদিন পার্কটি বন্ধ ছিল। আগে যারা লিজ নিয়েছিলেন তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে ওয়ান্ডারল্যান্ড গ্রুপকে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে শিশুরা আধুনিক ও নিরাপদ বিনোদনের সুযোগ পাবে।”
নগরবাসী আশা করছেন, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক পুনরায় চালু হলে এটি শিশুদের আনন্দের কেন্দ্র হিসেবে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Development by: webnewsdesign.com