ধর্ষণের বিচার দাবিতে রাবি শিক্ষকের খালি পায়ে পদযাত্রা

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০ | ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

ধর্ষণের বিচার দাবিতে রাবি শিক্ষকের খালি পায়ে পদযাত্রা
apps

দেশব্যাপী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিবাদে খালি পায়ে পদযাত্রা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরিদ খান। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বর থেকে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত খালি পায়ে হেঁটে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তিনি।

ড. ফরিদ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, যশোরের মনিরামপুরে তিন ব্যক্তিকে সহকারী কমিশনারের কান ধরানো এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতেও খালি পায়ে কর্মসূচি পালন ও নিজের কান ধরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

এর আগে গতকাল নিজের ফেইসবুক আইডিতে পদযাত্রায় আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, ‘আমাদের সমাজ দিনে দিনে নারীদের জন্য চরম অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে। সমাজে নারীদের অনিরাপত্তা কখনো ডিফল্ট অপশন হতে পারেনা। এই সমাজ নিয়ে আমরা লজ্জিত। আমরা ধর্ষণমুক্ত সমাজ চাই। আসুন এইসব মধ্যযুগীয় বর্বরতা এই মাটি থেকে বিদায় করি। আসুন নীরবতা ভেঙে সব ধরনের ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, যৌন হয়রানি এবং নারীদের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। আজকে অন্য কেও কাল হয়তো আমার আপনার বোন কিংবা মেয়ের ক্ষেত্রে হতে এমনটি হতে পারে। একজন ধর্ষণকারী মানুষ না, মানুষের চেহারায় একটি পশু। আসুন এইসব পশুদের রুখে দেই, মানবতা রক্ষা করি। আমরা রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ, রেপ পাবলিক অফ বাংলাদেশ নই!’

পদযাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. ফরিদ বলেন, দেশব্যাপী নারীদের ওপর চলমান নৈরাজ্য, সহিংসতা, ধর্ষনের প্রতিবাদে আমরা আজ পথে দাঁড়িয়েছি। নারীদের প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা খালি পায়ে পদযাত্রা করছি। আমরা একটি ধর্ষণমুক্ত সমাজ চাই।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সমাজে ধর্ষণ একটি ব্যধি হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের এখনই সময় নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হওয়ার। আজ নোয়াখালীতে নারী নির্যাতন হয়েছে কাল যে আমাদের মা-বোন হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। রাষ্ট্র আইন করে তবে তার প্রয়োগ যথাযথ করতে পারে না। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। মূলত একটা ভালো সমাজের জন্য এবং সমাজের যাবতীয় অসঙ্গতিগুলোর বিরুদ্ধেই আমাদের এই পদযাত্রা।’

এসময় কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদসহ চার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

Development by: webnewsdesign.com