ভারতের উত্তর প্রদেশের হাথরাসের সাদাবাদে ধর্ষণ শিকার হয়ে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশু ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) মারা যায়। এদিন বলদেব সাদাবাদ সড়কে শিশুর মরদেহ রাস্তায় রেখে প্রতিবাদ জানায় পরিবার।
এর আগে উত্তর প্রদেশেরই হাথরাস জেলায় গণধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দলিত সম্প্রদায়ের ১৯ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। একের পর ধর্ষণ এবং নৃশংসত হত্যাকাণ্ডে বিক্ষোভে উত্তাল ভারত।
এদিন, গুজরাটের আহমেদাবাদের রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষুদ্ধ জনতা। অবিলম্বে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। তবে পুলিশের বাঁধায় পণ্ড হয়ে যায় ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ। এক বিক্ষোভকারী জানান, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও উত্তর প্রদেশকে তা মনে হয় না। এটিকে ভগবান রামের রাজ্য বলা হলেও মূলত এটি সরকারি গুণ্ডাবাহিনীরে ভরা একটি প্রদেশ।
ধর্ষণবিরোধী প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগানে ধর্ষণের প্রতিবাদ জানান পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজনে এ বিক্ষোভে ধর্ষণের প্রতিবাদের পাশাপাশি নারীদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের বন্ধের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
আরেক বিক্ষোভকারী জানান, আমাদের দেশে নারীরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি খুবই দুঃখজনক যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের নারীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের জনগণও দুর্ভাগা। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
গেল ১৪ সেপ্টেম্বর দলিত সম্প্রদায়ের ওই নারীকে ধর্ষণ করে উচ্চ বর্ণের চার ব্যক্তি। ১৯ বছর বয়সী ওই নারীর মেরুদণ্ডসহ একাধিক হাড় ভেঙে ফেলা, জিহ্বা কাটাসহ পাশবিক নির্যাতন করা হয়। পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। একইদিন পুলিশ ওই নারীর পরিবারের অনুমতি ছাড়াই দেহ সৎকার করে।
এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টু শব্দও না করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতীয় কংগ্রেসের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী।
Development by: webnewsdesign.com