ধরলেন মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে: চালান দিলেন গাঁজা দিয়ে!

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৩২ অপরাহ্ণ

ধরলেন মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে: চালান দিলেন গাঁজা দিয়ে!
apps

দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক প্রতিবন্ধীকে ২শ’ গ্রাম গাঁজা দিয়ে মামলা দিয়েছে যশোর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাইফুল মালেক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সুমনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। গত তিন দিন আগে তাকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সন্দিগ্ধ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে উপশহর ক্যাম্পে আটকে রাখা হয় বলে তার পরিবার জানিয়েছেন। তারা আরো জানান,একজন সিআইডি পুলিশের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজার থেকে সুমন নামে ওই যুবককে আটক করে ক্যাম্পের নিয়ে আসে পুলিশ।

সুমন সদর উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। এরপর তার কাছে তাকে ছাড়াতে পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই সাইফুল মালেক। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাঝে জানাজানি হওয়ার পর তিনি বেজায়ভাবে ক্ষুব্ধ হন। তার সন্দেহ সুমনের পরিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে সুমনের মা ও স্ত্রী উপশহর ক্যাম্পে গেলে তাদেরকে গালিগালাজও করেন এসআই সাইফুল মালেক। একপর্যায়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় দৈনিক স্পন্দন পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশ হয়। সুমনের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে সুমনকে দুইদিন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। টাকা দাবির ঘটনায় পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ এসআই সাইফুল মালেক ২শ’ গ্রাম গাঁজা দিয়ে সুমনকে আদালতে চালান দিয়েছেন। এছাড়া সুমনকে আটক করা নিয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, সুমনকে মঙ্গলবার দুপুরে আটক করা হয় চুড়ামনকাটি বাজার থেকে।

আর উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই শাহাবুদ্দিনের দায়েরকরা মামলায় আটকের স্থান দেখানো হয়েছে বুধাবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে উপশহর ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে পাঁকা রাস্তার ওপর থেকে।

চুড়ামনকাটি এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, সুমন মাঝেমধ্যে গাঁজা সেবন করে। তার কাছে সামান্য পরিমান গাঁজা থাকলেও থাকতে পারে। তবে দুইশ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ দুইশ গ্রাম গাঁজা কোথায় পেলো? এসআই সাইফুল মালেক ওই প্রতিবন্ধীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা না পেয়ে দুইশ গ্রাম গাঁজা দিয়ে সুমনকে চালান করে দিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন, এসআই সাইফুল মালেকের মানুষ সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করা পুরনো অভ্যাস। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ সম্পর্কে যেখানে-সেখানে আজেবাজে মন্তব্য করে থাকেন তিনি। বিগত দিনে কোতয়ালি থানায় থাকাকালীন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমানসহ সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নামে বাজে মন্তব্য করেন।

যা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য শুনতে পায়। বিষয়টি পুলিশ সুপারের কানে গেলে যশোর পুলিশের উর্ধতন দুই কর্মকর্তা তা তদন্ত করে সত্যতা পান। সে কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ হয়। কিন্তু তদবির করে তিনি ওই যাত্রায় রক্ষা পান। তবে তাকে থানা থেকে সদর উপজেলার তালবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের বদলী করা হয়। সেখানে থেকে মাস তিনেক আগে তাকে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের দায়িত্ব নিয়ে আসেন। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্ব গ্রহনের পর তিনি ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

Development by: webnewsdesign.com