দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগী ও মৃতের সংখ্যা। নতুন করে গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরো ২৫ জন। হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ। আর পর্যাপ্ত আইসিইউ না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছেন তাদের স্বজনরা। যদিও আপাতত লকডাউনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, বেপরোয়াভাবে সাধারণ মানুষের ঘোরাফেরাই নতুন করে সর্বনাশ ডেকে এনেছে।
গেলো তিন চার মাস ধরে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এভাবে লাখ লাখ পর্যটকের ভিড় দেখা যায়। যা অব্যাহত রয়েছে এখনো। আর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের করোনা হাসপাতালগুলোতে। যেখানে আইসিইউর পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে না করোনা চিকিৎসায় সাধারণ সিটও।
বুধবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো ঘুরে দেখা যায়, একদিকে যেমন পরীক্ষা করতে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে তেমনি অনেক হাসপাতালেই আইসিইউ না পেয়ে এভাবে অ্যাম্বুলেন্সের পাশেই অক্সিজেন লাগিয়ে চিকিৎসা দিতেও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা এখন মহাবিপদে আছি। হিমশিম খাচ্ছি। কোথায় যাব বুঝতেছি না।
তথ্য বলছে, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক হাসপাতালেই এখন রোগীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতালগুলো জানায়, এমন চলতে থাকলে সপ্তাহখানেক পর পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমেদ বলেন, এবারের রোগীদের অবস্থা বেশি খারাপ। তাই আগামীতে অবস্থা আরও খারাপের দিকেই যাবে যথাসম্ভব।
এদিকে দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, যারা বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে গেছেন তারাই করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। লকডাউন দেব কি দেব না এটা সরকারের বিষয়। আমাদের নয়। দিলে আপনারাও জানতে পারবেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুলে গেলে চলবে না বিশ্বে এখনো মহামারি বিদ্যমান।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো তিন হাজার ৫৬৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর মারা গেছে ২৫ জন।
Development by: webnewsdesign.com