দেশের অর্থনীতি একটু একটু করে সচল হচ্ছে

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯:৪২ অপরাহ্ণ

দেশের অর্থনীতি একটু একটু করে সচল হচ্ছে
apps

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে বিভিন্ন দাতাসংস্থার কাছ থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক ঋণ সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। সে তুলনায় চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ প্রবাহে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না হলেও দেশের অর্থনীতি একটু একটু করে সচল হচ্ছে। সরকারের নীতি নির্ধারকরাও বলছেন যে, ‘দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।’ এ প্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ প্রবাহ খুব বেশি বাড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, করোনা পরিস্থিতির আগে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এসেছিল ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এসেছে ৫১ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় ২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার কম। এর মধ্যে জুলাইয়ে ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং আগস্টে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ঋণ সহায়তার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৮ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিট ঋণের পরিমাণ ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নেয়া হয়েছে ৫২ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বাংলাদেশ ৭২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ঋণ সহায়তা পেয়েছিল। এটি এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। করোনা পরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক ১৩০ কোটি ডলার, এডিবি ১৩০ কোটি ডলার, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল’ (আইএমএফ) ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, ‘এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক’ (এআইআইবি) ৫০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। অবশিষ্ট ঋণ সহায়তা পাওয়া গেছে ‘জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন-জাইকা’, ‘ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক’ (আইএসডিবি) এবং অন্যান্য দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ঋণ সহায়তা হিসেবে গত অর্থবছরে অর্ধেকের বেশি বৈদেশিক ঋণ এসেছে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে। এর পরিমাণ ৩৭৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে মার্চে ১০১ কোটি ডলার, এপ্রিলে ৩০ কোটি ৬২ লাখ ডলার, মে-তে ৪৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

Development by: webnewsdesign.com