দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে রূপগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর-লুটপাট

সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০ | ৭:৩২ অপরাহ্ণ

দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে রূপগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর-লুটপাট
apps

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে স্থানীয় চাঁদাবাজরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবককে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বীর হাটাব এলাকার আল-জামি আহ আস-সালাফিয়্যাহ নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

আল-জামি আহ আস-সালাফিয়্যাহ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল ইমরান সরকার জানান, ২০১৩ সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। প্রতিষ্ঠানটি আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জমি ক্রয় করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই বীর হাটাব এলাকার ওমর আলীর ছেলে চাঁদাবাজ আবু তালেব কর্তৃপক্ষের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি ক্রয় করতে হলে আবু তালেবকে শতাংশ প্রতি দশ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। কোন প্রকার চাঁদা দেয়া হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার রাতে ভাইস প্রিন্সিপাল ইমরান সরকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

পরে সোমবার সকাল ৯টার দিকে আবু তালেবের নেতৃত্বে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একদল চাঁদাবাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে প্রিন্সিপাল আব্দুল আলীম মাদানি ও ভাইস প্রিন্সিপাল ইমরান সরকারকে ফের হুমকি দেয়।

পরে টেবিলের গ্লাস ও চেয়ার ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে অফিস কক্ষে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা লুটে নেয়। এসময় পুরো মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় অভিভাবক লিটন মিয়া প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজরা তাকে বেধরক মারধর করে। পরে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে এগিয়ে এলে চাঁদাবাজরা পিছু হটে চলে যায়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শিক্ষক মাসুদুর রহমান, মোহাম্মদ আলীসহ আরো অনেকেই জানান, আবু তালেবসহ তার লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এ ধরনের চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করেন তারা।

রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সালাউদ্দিন ভুইয়া বলেন, এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। সঠিক বিচার হওয়া উচিত। অভিযুক্ত তালেব আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ধরনের ঘটনা শুনেছি। ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Development by: webnewsdesign.com