ঠাকুরগাঁওয়ের সিনেমা হলের সেই সোনালি অতীত এখন ইতিহাস মাত্র

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২:৪০ অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁওয়ের সিনেমা হলের সেই সোনালি অতীত এখন ইতিহাস মাত্র
apps

অব্যাহত লোকসান, নিম্নমানের ছবি প্রদর্শন ও ইন্টারনেট সুবিধার আসার পর থেকে দর্শক হারিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের সিনেমা হলগুলো। জেলার ১৬টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৪টি সিনেমা হল বন্ধ হয়েছে গেছে, চালু রয়েছে মাত্র ২টি।

বন্ধ হওয়া হলগুলো ভেঙে বসতবাড়ি, বিদ্যালয় কিংবা মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিকে ঠাকুরগাঁওয়ের সিনেমা হলগুলো বিলুপ্তির পথে।

প্রশাসন বলছে, সিনেমা হলগুলোকে পুণরায় চালু করতে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে যা যা করার সবকিছু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বলাকা সিনেমা হল বন্ধ করে সেখানে করা হয়েছে সিমেন্টের গোডাউন ঘর। মৌসুমী সিনেমা হলটিকে করা হয়েছে স্কুল। আলেয়া সিনেমা হলকে করা হয়েছে মার্কেট। অন্য সিমেনা হলের কোন চিহ্নই পাওয়া যায়নি। সিমেনা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকে। বর্তমানে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় ১টি ও পীরগঞ্জ উপজেলায় ১টি সিনেমা হল।

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী বলেন, ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও জেলা । একসময় এ জেলায় ১৬টি সিমেনা হল চালু ছিল। দর্শক হারানোর কারণে ১৪টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু রয়েছে দুইটি। তারও বন্ধের পথে।

 

সাংস্কৃতিক কর্মী মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ বলেন, একসময় বেদের মেয়ে জোসনা, রুপবান, খায়রুন সুন্দরী, কিরনমালা ছবি দেখার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দর্শকরা মিনিবাস, ট্রাক্টর, পিকআপ বা ভ্যান ভাড়া করে ঠাকুরগাঁওয়ের সিমেনা হলগুলোতে আসত। উপচে পড়া দর্শকের টিকিট পাওয়া নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। সিনেমা প্রেমীদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতো হল মালিকদের। তখন জেলার সবকটি সিনেমা হল সারা বছরই থাকত জমজমাট।

ঠাকুরগাঁওয়ের সিনেমা হলের সেই সোনালি অতীত এখন ইতিহাস মাত্র।

শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাহিদ রেজা বলেন, সিনেমা হলগুলোতে নিম্ন মানের ছবি প্রদর্শন, নোংরা পরিবেশ হওয়ার কারণে দর্শকরা হলগুলো থেমে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মানুষ এখন ঝুকে পড়েছে ইন্টারনেট জগতে।

পুরনো দিনের সিনেমাগুলো ভুলতে বসেছে সাধারণ মানুষ। বর্তমান প্রজন্ম এক সময় সিনেমা হল বলতে কোনো জিনিস ছিল সেটা বলতেই পারবে না।

জেলা উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু বলেন, হলগুলোকে পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনতে হলে উন্নত মানের সিনেমা তৈরি করতে হবে। যাতে দর্শকরা আবারও হলমুখি হয়। সিনেমা হলগুলোকে পুণরায় চালু করতে সরকারের উদ্যোগ নেয়া দরকার।

বলাকা সিনেমা হলের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, সিমেনা হলটি যখন চালু ছিল সেখানে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে সংসার চলত। লোকসান হওয়ায় মালিক হলটি বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে হলটি গোডাউন ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মৌসুমী সিনেমা হলের মালিক মনিরুল ইসলাম বলেন, দর্শকশূন্যতার কারণে লোকসান হয়েছে, তাই সিমেনা হল বন্ধ করে সেটি স্কুল ঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আমার মতই জেলার ১৪টি সিমেনা হলের মালিকরা লোকসানের কারণেই হল বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ২টি চালু রয়েছে, সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে শীঘ্রই।

 

তিনি বলেন, সিমেনা হলগুলোকে সচল রাখতে সরকার থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল সহযোগিতা করা হবে। কিন্তু আমরা কোন সহযোগিতা পাইনি। অব্যাহত লোকসানের কারণে হলগুলো বন্ধ হয়ছে।

সরকারি সহযোগিতা, মানসম্মত ছবি ও আধুনিকায়ন করে পুরোনে রূপে হলগুলোকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন মনিরুল ইসলাম।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম বলেন, সিমেনা হল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধ হওয়া হলগুলো পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। হলগুলো চালু করার ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

Development by: webnewsdesign.com