টেকনাফের অস্ত্রসহ গিয়াস উদ্দিন বাহিনীর ৪ সদস্য গ্রেফতার

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ৯:০৪ অপরাহ্ণ

টেকনাফের অস্ত্রসহ গিয়াস উদ্দিন বাহিনীর ৪ সদস্য গ্রেফতার
apps

কাক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির অভিযানে ৬টি অগ্নেয়স্ত্র ও তাজা কার্তুজসহ কথিত গিয়াস উদ্দিন বাহিনীর ৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়ছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ৮ টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের উলুমারী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের উলুসামারী কোনা পাড়া এলাকায় মৃত আবুল হোসেনের ছেলে, নুরুল আমিন(৩২) একই এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে, জাফর আলম(৪২) হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিবালী এলাকার মৃত মোঃ শফির ছেলে, আনোয়ার হোসেন (২১) মৃত মোজাফফর আহম্মদের ছেলে, নজির আহম্মদ(৫০) টেকনাফের ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবির) অধিনায়ক লে, কর্নেল মোঃ ফয়সাল হাসান খান জানান, উলুমারী গ্রামে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত জাফর আলমের বসতঘরসহ আর ও ২টি বসতঘর থেকে ৬-৭ জন ডাকাত পালিয়ে যায়।তবে টহল দল নুরুল আমিনের বাড়ি থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

পরে বসত বাড়ি তল্লাশী করে ৬টি দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক, ১০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ৯ রাউন্ড গুলির খোসা, ৪ রাউন্ড রাইফেলের এ্যামুনেশন, ৪ রাউন্ড এলএমজি এ্যামুনেশন, ৪ রাউন্ড প্যারাসুট ফ্লেয়ার, একটি পুলিশ বেল্ট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সবাই গিয়াস বাহিনীর সদস্য। এই বাহিনীর হাতে দীর্ঘদিন ধরে হ্নীলা ইউনিয় ও তার আশেপাশের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জিম্মি। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়া এ পর্যন্ত গিয়াস বাহিনীর হাতে ২০ জনের অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত (২১ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মোঃ তৈয়বকে (৩৮) প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে লাশের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করে গিয়াস বাহিনীর গিয়াস ও তার সদস্যরা।

নিহতের তৈয়বের ভাই জাফর হোসেন বলেন, গিয়াস বাহিনীর দাবিকৃত চাঁদার ৩ লাখ টাকা না দিয়ে গণমাধ্যমকে তথ্যে দেয়ায় তার ভাইকে হত্যা করেছে তারা। তার দাবি গিয়াস বাহিনী এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অর্ধশতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। অনেকের লাশ খুজেও পাওয়া যায়নি। যাদের অধিকাংশ রোহিঙ্গা। স্থানীয় শাহ আলম বলেন, গিয়াস বাহিনী এক এক করে তাদের পরিবারের ৬ জনকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্য ৪ জন তার আপন ভাই, একজন চাচাতো ভাই, ও অপরজন তার বোনের জামাই। চাঁদা না দেওয়ায় ও সন্ত্রাসী কর্যক্রমে বাঁধা দেয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি শাহ আলমের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকাত গিয়াসের দলে ২৫ থেকে ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। যাদের প্রত্যকের নামে ১০ থেকে ১৮ টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। বেশির ভাগ মামলা হত্যা, ডাকাতি অপহরন ও ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী গ্রুপ যইত বড় বা শক্তিশালী হোকনা কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের সবাইকে আইনে আওতায় আনা হবে।

Development by: webnewsdesign.com