ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এক সদস্যসহ তিনজন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার ধুমঘাট ফরেস্ট অফিস এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— মিরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া এলাকার নাফিজ আহমেদ অয়ন (১৮), চট্টগ্রাম নগরীর চাঁদগাঁও এলাকার ছাবিতুন নাহার (২৫) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মিন্টু মিয়া (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নাফিজ আহমেদ অয়ন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। আহতদের উদ্ধার করে মিরসরাই ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট উত্তর বাইপাস এলাকায় একটি কাঠবোঝাই ট্রাক লেনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস’-এর একটি দ্রুতগতির স্লিপার কোচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বাসের ভেতরে আটকে পড়া আহতদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পুলিশ রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মহাসড়কে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক এবং বাসের অতিরিক্ত গতিই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
Development by: webnewsdesign.com