চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মাদ্রাসার বার্ষিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দাওয়াত দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকোঁ সরকার পাড়া বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, হেয়াকোঁ সরকার পাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ছবক প্রদান উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসার সভাপতি হান্নান জানান, সরকারি রেজিস্ট্রেশনের লক্ষ্যে অনুদান সংগ্রহের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে যুবদল নেতা ঘোষণা কবির এসে তাকে দাওয়াত না দেওয়ার কারণ জানতে চান এবং গালিগালাজ শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয় সর্দার তাজুল ইসলামের সাথে কবিরের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। হাতাহাতি থেকে তা দ্রুত বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন— সর্দার তাজুল ইসলাম, তার ভাই শহীদুল্লাহ, ছেলে নুরুল ইসলাম, বাপ্পি, ওয়াসিম ও হুমায়ুন। বাকি তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হেয়াকোঁ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাজুল ও কবির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মাদ্রাসা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ পুনরায় মাথাচাড়া দেয়। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
Development by: webnewsdesign.com