ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৪১ জনে

বুধবার, ১৮ আগস্ট ২০২১ | ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৪১ জনে
apps

ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৪১ জনে। নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। খাবার, ওষুধ আর আশ্রয়ের অভাবে বিপর্যস্ত বেঁচে যাওয়া লাখো মানুষ।

দেশটিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধান ও উদ্ধারের চেষ্টা। মৌসুমি ঝড়ের প্রভাবে অতিবৃষ্টি আর বন্যায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কাজ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্পে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজারে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার বেশি রোগীর ভিড়ে গুরুতর আহতদের প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাঁবুতে। তাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না অনেকে।

এ অবস্থায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

গত শনিবার ৭ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে হাইতির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। কম্পনের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে আমেরিকা মহাদেশের দরিদ্রতম দেশটির কয়েক হাজার ভবন ও স্থাপনা।

১১ বছর আগের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের ক্ষতই এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাইতি। ওই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয় দুই লাখের বেশি মানুষের।

প্রেসিডেন্ট জোভেনের মোউসে হত্যাকাণ্ডে এক মাস ধরেই অচলপ্রায় হাইতির অর্থনীতি ও রাজনীতি। করোনাভাইরাস মহামারি আর লকডাউনের প্রভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত। আগে থেকেই দুর্ভিক্ষের মুখে বিপুলসংখ্যক মানুষ।

ভূমিকম্পকবলিত কয়েকটি এলাকা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকা অতিক্রম করা মৌসুমি ঝড় গ্রেসের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। কয়েকটি এলাকায় তীব্র বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে; হয়েছে ভূমিধস।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, বিশুদ্ধ পানি, খাবার, স্বাস্থ্যসেবা ও মাথার ওপর ছাদ পাচ্ছে না প্রায় পাঁচ লাখ শিশু।

দুর্গতদের জরুরি সহায়তা দিতে ৮০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে জাতিসংঘ। খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠিয়েছে ভেনেজুয়েলা, চিলি, মেক্সিকো, পানামা, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিকসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ; সাহায্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও।

২০১০ সালের ভূমিকম্প আর ২০১৬ সালে হারিকেন ম্যাথিউর পর হাইতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শত কোটি ডলারের সহযোগিতা পাঠায়। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে উপকৃত হয়নি দুর্গতদের বেশির ভাগ। দেশটিতে আগে থেকেই রয়েছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের চরম ঘাটতি।

Development by: webnewsdesign.com