প্রবল বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে কুড়িগ্রামের নদনদীর পানি বেড়ে ৫ম দফা বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতি হয়েছে। গত শনিবার সকাল থেকে সব নদনদীর পানি কমলেও রবিবার সকাল থেকে পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
এদিকে, রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ২৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এ বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত চলমান থাকবে বলে এ কর্মকর্তা জানান।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রোববার বিকেল পর্যন্ত সব নদনদীর পানি বাড়লেও ধরলার পানি বেড়ে আবারো বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শামসুজ্জামান মিয়া জানান, ৫ম দফা বন্যায় নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমির আমনসহ ১৮ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য ফসল মাসকালাই ৬৫৪ হেক্টর, শাকসবজি ৩৫০ হেক্টর এবং চিনা বাদাম ৮০ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত। বন্যার কারণে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, মোগলবাসা, হলোখানা, রাজারহাটের ছিনাই, মহিধর, মীরেরবাড়ি, দেবালয় এবং ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙা ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে শত শত হেক্টর জমির শীতকালীন আগাম ফসল বেগুন, মুলা, কপি, লাল শাকের খেত নষ্ট হয়ে গেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার বড়লই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, আমার বাগানে চাষ করা ফসলের অনেক কিছ্ইু এবারের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ঢেড়শ, ঝিঙে, লাউ, সীমসহ আরো অনেক সবজি খেতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্যায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় পানির প্রবল চাপ খেতে এসে ডুবে যায়। ফলে ফসলের খেত রক্ষা করা যাচ্ছেনা। আমার প্রায় ৫লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে আমি হিসেব করেছি।
এদিকে, বন্যার পানি খড়ের গাদায় উঠে খড় নষ্ট ও গোচারণভূমি ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্য সংকট। তাছাড়া নদনদীর পানি কমা বাড়ার ফলে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে জেলার ৬উপজেলার ৬৭টি পয়েন্টে। গত দুইদিনে বিভিন্ন এলাকায় আরো দেড় শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে বাঁধ ও রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত অবিরাম প্রবল বৃষ্টি থাকায় মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারেননি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ধরলাসহ অন্যন্য নদ-নদীতে পানি আরো দু একদিন বাড়বে।
Development by: webnewsdesign.com