কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন চলাকালে যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনের উপর হামলার আসল ঘটনা আড়াল করতে এ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলার বাদী আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের স্ত্রী কালেক্টরেট স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার ডিউ। তার স্ত্রীও আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী।
গত ১১ মার্চ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পুরো সংবাদ সম্মেলনটি ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করছিলেন লালন। এ সময় চ্যানেল টূয়েন্টি ফোরের প্রতিনিধি শরীফ বিশ্বাস একটি বিষয়ে মতামত দেন। তিনি বলেন সংবাদ সম্মেলন চলাকালে যে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে সেই বিষয়ে প্রশ্ন করতে হবে, কোন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা ঠিক না। এ সময় উত্তেজিত হয়ে রাশেদুল ইসলাম বিপব গালাগালি শুরু করেন। এরপর তার স্ত্রী ডিউ তার আসন থেকে উঠে এসে প্রায় ৫ ফুটের বেশি দুরে দাঁড়ানো লালনের মোবাইল তার হাত থেকে নিয়ে দুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। এ সময় লালন উত্তেজিত হয়ে তার হাতে থাকা মোবাইল ফেলে দেওয়ার কারন জানতে চান। এসময় বিপ্লব তার আসন থেকে উঠে এসে লালনকে ঘুষি মারে। এ সময় সেখানে পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের কর্মকর্তারা এ সময় তাদের নিবৃত করেন। এ সময় সময়ের দিগন্তের সম্পাদক নাহিদা হাসান তিতাসের সাথে অশালীন আচরণ করে বিপবের কয়েকজন সহযোগী।
এ ঘটনা আড়াল করে বিপ্লব তার স্ত্রীকে ডিসি কোর্ট চত্বরে হয়রানী করা হয়েছে বলে আদালতে মামলা জমা দিয়েছে। আদালত মামলা তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিক শরীফ বিশ্বাস বলেন, পুরো ঘটনার জন্য বিপ্লব দায়ী। সে নিজে এসে ঘুষি মারেন। তার স্ত্রীও খারাপ আচরন করে। মামলা থেকে বাঁচতে তারা মিথ্যা মামলা করে পুরো ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। তারা ডিসি কোর্ট চত্বরে একটি মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা জমা দিয়েছে আদালতে। এটা লজ্জার। তীব্র নিন্দা জানায়। একই সাথে পুলিশ সুপার কোন ব্যবস্থা না নেওয়া তার জন্যও লজ্জার। তদন্ত হওয়া দরকার।
সময়ের দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক নাহিদ হাসান তিতাস বলেন,‘ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা আসল ঘটনা আড়াল করতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করার চেষ্টা করছে। এটা সাংবাদিকদের জন্য লজ্জার। সেখানে সিসি ক্যামেরা আছে। পুলিশের সবাই দেখেছে। অতএব, ঘটনা আড়াল করার কোন সুযোগ নেই।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন,‘ ১১ মার্চ লালনের উপর হামলা হয়েছে। আমরা অনেক ধৈর্য্য ধারন করেছি। ধর্যের বাঁধ ভেঙ্গে আন্দোলনে নামা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। অপসংবাদিকদের প্রতিহত করতে হবে।’
মামলার বিষয়ে যমুনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহতাব উদ্দিন লালন বলেন- পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আমার ওপর হামলা করা হয়। সেখান থেকে দুপুর ১টার পর বের হয়ে ৫ রাস্তার মোড়ে আমার অফিসে আসি। সেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করি। সড়কগুলোতে সিসি টিভি রয়েছে। যা তদন্ত করলে মামলটি মিথ্যা তা প্রমাণিত হবে।
এদিকে লালনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, এডিটরস ফোরামসহ সকল সংগঠন।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক অধিকার ফোরামের প্রতিবাদ ও বিবৃতি যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া রিপোর্টার মাহাতাব উদ্দিন লালনের নামে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষে সভাপতি গাজী মাহাবুব রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, সম্প্রতি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিদের সামনেই পেশাগত কাজে বাধা দিয়ে যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনকে লাঞ্ছিত করে একজন নামধারী সাংবাদিক। এ ঘটনায় নামধারী ঐ সাংবাদিক গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিক মাহাতাব উদ্দিন লালনের নামে উল্টো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (বিশেষ) ট্রাইব্যুনাল আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ঐ আদালতের বিচারক মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আমরা উক্ত মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হলে বৃহত্তর কর্মসূচী দেয়া হবে।
এদিকে অপর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সাংবাদিক অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি নুর আলম দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে সাংবাদিক মাহাতাব উদ্দিন লালনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মামলার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া রিপোর্টার মাহাতাব উদ্দিন লালনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ক্যামেরাপারসন এসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষে সভাপতি আশিকুজ্জামান শারফু ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান যৌথ বিবৃতিতে উক্ত মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।