দীর্ঘ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুর আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলজুড়ে রাজনৈতিকে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।রংপুর বিভাগীয় জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর চেম্ববার ভবনের হলরুমে এই বিভাগীয় জনসভাকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জনসভায় শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগের দ্বায়িত প্রাপ্ত বিএনপির জাতীয় নিবাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান দুলু লালমনিরহাট ৩ আসনের এমপি প্রাথী ও রংপুরের গঙ্গাচড়া-১ আসনের প্রাথী মোকাররম হোসেন সুজন, রংপুর-২ আসনের মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ আসনের সামসুজ্জামান সামু, রংপুর-৪ আসনের এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৫ আসনের গোলাম রব্বানী ও রংপুর-৬আসনের সাইফুল ইসলাম।তারা বলেন, “অল্প সময়ে অনেক তথ্য আপনাদের জানানো সম্ভব হয়নি।কিছু ঘাটতি আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে, তবে সেগুলো খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পূরণ করা হবে।”
নেতারা জানান, রংপুর বিভাগে মোট ৩৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসনের বিএনপির প্রার্থীরা এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক জনসভায় অংশ নেবেন। বিভাগীয় সমাবেশ হওয়ায় স্থানীয় ও বিভাগীয় নেতাকর্মী মিলিয়ে ব্যাপক জনসমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুই লাখ লোকের উপস্থিতি আশা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, “রংপুর বিভাগ বরাবরই অবহেলিত। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সংকট ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ জোরদার করতে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।”
তারা আরও বলেন, এই জনসভা শুধুমাত্র রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য নয়;বরং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া ও বঞ্চনার কথা জাতির সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এসব ন্যায্য দাবি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন নেতারা।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বলেন, “আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।জনসভাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার আশঙ্কা নাকচ করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার কথাও জানান।
বিএনপি নেতারা বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রংপুর বিভাগের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন পর শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মুখে উল্লাস ও প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট।তারেক রহমান আশা নিয়েই রংপুরে আসছেন, আর সেই আশাতেই আনন্দে ভাসছে পুরো রংপুর বিভাগ।
রংপুরে এই বিভাগীয় জনসভা বিএনপির জন্য যেমন একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ, তেমনি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠছে।পরে বিভাগীয় জনসভা বিএনপির নেতাকমীরা পরিদশন করেন।
Development by: webnewsdesign.com